
একই দেশের আদালতে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া দুই নারীর ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সওদা গতকাল (রোববার) রাতে গ্রেফতার হওয়ার পর আজ মঙ্গলবার দুপুরেই আদালত তাঁকে জামিনে মুক্তি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি ও তাঁর দুই সহযোগী গত ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানোর অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
ভোলায় জামায়াতে ইসলামীর পৌরসভা মহিলা শাখার কর্মী বিবি সওদা বেগমকে (৩৭) গত ৫ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। পরদিন আদালতে তোলার পর কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোলা আদালত তাঁকে জামিন মঞ্জুর করেন।
অন্যদিকে, গত ৭ মার্চ (শনিবার) রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে রিকশায় করে মাইকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানোর সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেফতারের পরদিন থেকে তাঁরা কারাগারে রয়েছেন। একাধিক জামিন আবেদন নাকচ হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই দুই ঘটনার তুলনা করে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণে রাজনৈতিক বৈষম্য স্পষ্ট। যে অভিযোগে বিবি সওদাকে গ্রেফতারের একদিনের মধ্যেই জামিন দেওয়া হলো, সেই একই আদালত ব্যবস্থায় ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানোর মতো ঘটনায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনজন ছাত্রী-ছাত্রকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।
এছাড়া, রাজনৈতিক কারণে দেশজুড়ে হাজারো মানুষ ভুয়া মামলায় বিনা বিচারে কারাগারে দিনের পর দিন বন্দী রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনের প্রয়োগে নিরপেক্ষতা না থাকলে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের মূল ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালত ও সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই বৈষম্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে।